ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

ডিআইজি পরিচয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, বরখাস্ত অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   3 বার পঠিত

ডিআইজি পরিচয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, বরখাস্ত অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী

নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং অনুমোদিত ছুটির আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

ছুটির আগেই কর্মস্থল ত্যাগ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর ছিল। তবে তিনি ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

ওই দিন নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন তিনি। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন।

একাধিকবার ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগ

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এর আগেও একাধিকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেছিলেন টুটুল চক্রবর্তী। এসব ঘটনার কারণে তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত, পিএসসির মতামতের পর বরখাস্ত

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তিনি ৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এরপর গত ১৬ জুন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। তবে এবারও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেয়।

সবশেষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গত ৫ অক্টোবর বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়া এবং কর্মস্থল থেকে পলাতক থাকার কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

২০তম বিসিএসের কর্মকর্তা টুটুল চক্রবর্তী

টুটুল চক্রবর্তী ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের ৩১ মে পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান তিনি।

তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) ছাড়াও তিনি সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টুটুল চক্রবর্তী বিপিএম পদক পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৬:৫৭ এএম | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।